দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্রিসের পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় কৌশলে গ্রেট সি ইন্টারকানেক্টর (জিএসআই) গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলকে সংযুক্তকারী প্রস্তাবিত সমুদ্রতল বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, উচ্চাভিলাষী এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি ভবিষ্যতে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় এক উদ্যোগে জিএসআই-কে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তর কৌশলগত অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন পথ তৈরি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ব্র্যাড শ্নাইডার ও রিপাবলিকান প্রতিনিধি গাস বিলিরাকিসের নেতৃত্বে একদল মার্কিন আইনপ্রণেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন-এর প্রধান বেন ব্ল্যাকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে জিএসআই প্রকল্পের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ভবিষ্যতে আইএমইসি-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পরিণত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জিএসআই-এর মতো অবকাঠামো প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সক্ষমতা বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহের পথ বৈচিত্র্যময় করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা আরও মনে করেন, এ ধরনের অবকাঠামো এমন বিকল্প তৈরি করতে পারে, যা কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবাধীন অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমাবে।
জিএসআই বাস্তবায়নের পথে সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে একটি শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় ব্রিফিংও চেয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলোও ওয়াশিংটনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রস্তাবিত জিএসআই-এর মূল লক্ষ্য হলো গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎ গ্রিডকে সংযুক্ত করা। এর ফলে ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে দ্বিমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহের সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রতি এথেন্সে ফরাসি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ামকে জিএসআই-এর পেছনে থাকা কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হওয়ার অনুমোদন দেওয়ার পর প্রকল্পটির পরবর্তী ধাপ নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, বরং গ্রিস-সাইপ্রাস-ইসরায়েলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামোগত অক্ষ গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে পূর্ব ভূমধ্যসাগরকে ইউরোপ ও বৃহত্তর আইএমইসি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে জিএসআই একটি কৌশলগত সেতু হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
যে আই